
স্বপ্নবিলাসী
১.
আমি রোদে পুড়ে পুরো ভাজা ভাজা হচ্ছি। জানি কিছুই করতে পারবো না। তাশা পুরো ক্ষেপা আমার উপর। চেয়েছিলাম ফাঁক বুঝে দুইটা টান দেবো সুরিয়ায়। কিন্তু পিছনে কাশির শব্দ আমাকে বুঝিয়ে দিলো যা বোঝার। টঙ্গের মামাকে বলে রেখেছিলাম ও যদি আসে তো আমাকে আগে সাবধান করে। কিন্তু কে জানতো মামার সাথে এই মহিলার কন্ট্রাক্ট করা। আজ সিগারেট ছাড়ার প্রথম দিন ছিলো। জানি না কেন.. মন চাইলো একটু বাজিয়ে দেখি। কিন্তু দেখার আর সময় পাইনি। পুরো ৪২০ ধারা জারি করা হয়েছে আমার উপর। এই কথা যদি না রাখি তাহলে ও যে কি করে বসবে তা আমি নিজেও জানি না। পুরো পাগল একটা .. খানিকটা আমার মতো। মাথায় এতো বড় বড় উকুন। আরে না ভাই ..আসল উকুন না। পাগলামির উকুন। তাশা গাছের ছায়ায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছে, সাথে কিটক্যাট। আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে দাঁত বের করে হাসছে। চুলগুলো পুরো এলোমেলো। দাঁতে চকলেট লেগে অদ্ভুত চিত্রকর্মের সৃষ্টি করছে। ভালোই লাগছে দেখতে। মানুষকে মাথা দুলিয়ে বই পড়তে দেখেছি। এই প্রথম চকলেট খেতে দেখলাম। টপটপ করে ঘাম ঝরছে আমার থুতনি বেয়ে। আশেপাশের মানুষজন অবাক হয়ে আমাকে দেখছে। দেখুক। সমস্যা নেই। হঠাৎ তাশাকে দেখলাম মুখটা ঘুরিয়ে নিয়েছে। আমার কাছে আড়াল করে রেখেছে। আমি জানি ও আমার অবস্থা দেখে কাঁদছে। কিন্তু এ ও জানি আমার শাস্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার কাছেও আসবে না। এমনই এক অদ্ভুত মেয়ে তাশা।
ত্রিশ গোডাউনের সব কপোত কপোতীরা আমাকে দেখে ফিসফাস করছে। একদল সহৃদয় কাপল আমার কাছে এসে জানতে চাইলো
-ভাই আপনার কি হয়েছে? এই রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
আমি একটা "পাইয়ালাইছি তুমারে" টাইপ হাসি দিয়ে বললাম
-আচ্ছা বলেন তো এক আর এক মিলে এক হয় কখন?
-মানে? জানি না।
তার গার্লফ্রেন্ড বাঁকা চোখে আমাকে দেখছে। নিজের বয়ফ্রেন্ডের উপর চরম বিরক্ত সে।
কেন যে এই উটকো ঝামেলায় জড়ালো!
আমি শার্টের হাতা দিয়ে কপালের ঘাম মুছে বললাম
-দেয়ার আর মেনি গার্লস ইন হেভেন অ্যান্ড আর্থ। ... বলে ইঙ্গিতে তাশাকে দেখালাম।
-ওহ! হাহা .. পানি খাবেন ভাই?
এবার গার্লফ্রেন্ড পুরো ফায়ার। কোথাকার কাকে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার এতো কিসের দরকার। পাউডার সুন্দরীর অবস্থা পুরো খারাপ। সেও ঘামতে লাগলো সাথে মেকাপ মাখামাখি হয়ে যেতে থাকলো। বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে চলে যেতে চাইলো। কিন্তু বয়ফ্রেন্ড আমাকে ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার পেয়েছে। জানি না কেন সবাই আমার প্রতি একটু বেশিই আকৃষ্ট হয়।
আমি একবার তাশার দিকে দেখলাম। কটমট করে চেয়ে আছে। আমি আরেকটু টুইস্ট করতে চাইলাম। তাই মাথা নেড়ে পানির বোতল নেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাহার করলাম।
আর গার্লফ্রেন্ডকে আস্তে করে বললাম
-পরের বার ঘুরতে বের হওয়ার সময় দয়া করে নখ পরিষ্কার করবেন আর দাঁত ব্রাশ করে বের হবেন। নাহলে হলুদ চিত্রকলা দেখে আপনার বিএফ ভেগে যাবে।
মেয়েটাকে দেখে মনে হলো তাকে কেউ কষে থাপ্পড় মেরেছে। সে আমাকে বাস্তবে রিটার্ন থাপ্পড় মেরে বয়ফ্রেন্ডকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেলো। আমি কিছুই হয়নি এমন একটা ভাব করে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি জানি এতে কাজ হবে। তাশা রাগ করে থাকার ভাব করে থাকলেও একটু পর এসে জানতে চাইবে কি হয়েছিলো। তখন আমার ভাব নেয়ার সময় হবে। আমি নদী দেখতে লাগলাম। নদীর তীরে বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করলো। আমিও হারিয়ে গেলাম খানিকটা অতীতে।
২.
তাশার সাথে আমার প্রথম দেখা হয় বরিশালের একটা ফেইসবুক গেট টগেদারে। ওকে দেখেই আমার জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেনের কথা মনে পড়লো। মনে মনে বললাম
-চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা!
বনলতা সেনকে দেখে নাবিক দিশা হারিয়েছিলো। কিন্তু আমি তাশাকে দেখে খানিকটা ভয় পেয়েছিলাম। পুরো অগোছালো একটা মেয়ে।
আসলে আমার বন্ধু আরিয়ান আমাকে এই গেট টুগেদারে এনেছিলো। আমি জানতামই না এর ব্যাপারে। তাশার সম্পর্কে আরিয়ানকে জিজ্ঞেস করতেই ও আমাকে তাশার নাম জানালো। আরো বললো যে এই মেয়েটার প্রতিভা অসীম। গান, নাচ, ছবি আঁকা থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যা ও পারে না। তবে এটাও বললো যে মেয়েটা খানিকটা পাগলাটে।
কয়েকদিন পর তাশাকে আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসে দেখলাম। মনে হয় নতুন ভর্তি হয়েছে। আশ্চর্য ব্যাপার মেয়েটার পায়ে কোনো জুতা নেই। জুতা ছাড়াই সে ক্যাম্পাসে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি এগিয়ে গেলাম ওর কাছে।
-এই মেয়ে!
-জ্বী, বলেন।
-জীবনানন্দ দাশের নামটা যদি গানের রিদমে বলা হতো তাহলে সেটা কিরকম শুনাতো?
-জানি না তো। ..(মাথা চুলকে বললো।)
-টুটুটু টুট্টু টুস!
ও খানিকটা বিভ্রান্ত হয়ে আমার দিকে তাকালো।
আমি ওকে পিছনে ফেলে কলেজের গেট দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসলাম। এই লাইনটা এখন ওর মাথায় সারাদিন ঘুরবে। মানুষের নিজের মস্তিষ্কের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই। সে না চাইলেও এখন সারাদিন এই সুরটা বেজে চলবে অবিরাম। খানিকটা বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে আছে তাশা। আমি গেটের ফাঁকা দিয়ে দেখে মেসে চলে গেলাম। আমি শুধু গিটারে একটা সুর তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সুরটা যে পরে এতো বড় গান হয়ে যাবে তা বুঝতে পারিনি।
সেইদিন বিকেলে মেসে বিছানায় ঘুমাচ্ছিলাম। দরজায় নক করার শব্দ শুনতে পেলাম। উঠে কোনো মতে লুংগিতে গিট্টু মেরে দরজা খুলে উঁকি দিলাম। দেখি আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে। বললাম
-কিরে? তুই এই অসময়ে!
-তোর তো হইয়া গেছে রে!
-কেন? কি হইছে?
-এতো কথা না বলে ভালো জামা কাপড় পড়ে নিচে যা।
-কেন?
-আরে বাপ এতো কেন কেন করিস কেন? গেলেই দেখতে পাবি।
-আচ্ছা। ২ মিনিট।
আমি নিচে নামতেই দেখলাম তাশা দাঁড়িয়ে আছে নাসির কাকার দোকানের সামনে। আরিয়ান আমাদের নিয়ে অতপর বিএফজি তে নিয়ে গেল।
ঐদিন তাশার জন্মদিন ছিলো।
৩.
তারপর কলেজে দেখা হতো প্রায়ই। ফেইসবুক, মোবাইলে কথা বলা, গ্রুপ গেট টুগেদার, আড্ডা ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে উঠলো। তাশা খুব স্বপ্নবিলাসী। কিন্তু বড্ড ছন্নছাড়া। আমি মেনে নিলেও আমার পরিবার হয়তো ওকে মেনে নেবে না। এ নিয়ে খানিকটা চিন্তিত আমি।
যা ভেবেছিলাম। তাশা আসছে আমার কাছে। এসে বললো
-এই! ঐ মেয়েটা তোমাকে থাপ্পড় দিলো কেন?
-আমারো পরান যাহা চায়!
-হেয়ালি করবেনা বলে দিলাম। কি হয়েছে?
-ভুলে গিয়েছি।
পারলে চোখের আগুনে আমাকে ভস্ম করে দেয়।
-হিহ। তুমি দাঁড়ায়ে থাকো। আমি গেলাম।
বলেই প্রস্থান করলেন মহারানী।
আমি দাঁড়িয়ে আছি তপ্ত দুপুরে। আকাশটা কালো হয়ে আসছে।
আমি মনে মনে বললাম
-আয় বৃষ্টি ঝেঁপে ধান দেবো মেপে।
বৃষ্টি এলো। তীব্র বাদল আমাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। হালকা দুলতেছি। নিজেকে মাতাল মনে হচ্ছে। তাশা গাছের আড়ালে লুকিয়ে আমাকে দেখছে আর ভিজতেছে। বৃষ্টির কারণে সবাই চলে গিয়েছে গোডাউন থেকে। আমি একা প্রেম নামক বৃত্তের কেন্দ্রে আছি। কেন্দ্র অবস্থান পাল্টালে বৃত্ত অসহায় হয়ে পড়ে। আমি বৃত্তকে অসহায় করতে চাচ্ছি। মাথা ঘুরাচ্ছে। একসময় সব অন্ধকার হয়ে গেল।
চোখ খুলতেই তীব্র আলোর ঝলকে আবার চোখ বন্ধ করতে হল। এয়ার ফ্রেশনারের ঘ্রাণ পাচ্ছি। হাতে তীব্র ব্যথা। যদি আমার অনুমান ঠিক হয় তাহলে আমি একটি মেডিকেলের কেবিনে আছি।
নাহ! অনুমান ভুল।
আমি আমার বাসায় আছি। আসলে আমার রুমে আছি। বুকে ব্যান্ডেজ করা আমার। কি হলো বুঝতেছি না। মাকে ডাক দিলাম। আম্মু আসলো। পিছনে তাশা। ওকে দেখে আমি ভড়কে গেলাম। ওকে সুন্দর লাগছে। পুরো বদলে গিয়েছে। মা কাঁদছে কেন বুঝতেছি না। আর তাশাও এখানে কেন!
-কি হয়েছে মা?
-কিছুনা বাবা। তুই বিশ্রাম নে। বউমা তুমি ওর যত্ন নাও। আমি সবাইকে ফোন করে জানাচ্ছি।
বলে মা চলে গেল ভিতরে।
৪.
-বৌমা!
আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম তাশার দিকে।
তাশা আর আগের মতো নেই। এলোমেলো চুল আজ বেনী করা। সেই পাগলাটে চাহনিটাও নেই আজ। চোখজোড়া যেন আমাকে দেখে হাসছে।
-এই মেয়ে। হাসো কেন?
-কই হাসলাম?
-তোমার সুন্দর চোখজোড়া তো হাসছে।
-তাই নাকি?
-হুম। কি হচ্ছে এখানে?
-তেমন কিছুই না। এখানে সাইন করো।
বলে আমাকে উঠিয়ে বসালো আর একটা ম্যারেজ রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিলো।
-এইটা কি?
-আমাদের অফিসিয়াল বিয়ে।
সার্টিফিকেটে তাশা আগেই সাইন করে রেখেছে। আমি এতোদিন মানুষকে বিভ্রান্ত করতাম। আজ নিজেই খানিকটা বিভ্রান্ত আমি।
-কি হয়েছিল আমার?
আমি সাইন না করে জিজ্ঞেস করলাম।
-বুকে টিউমার হয়েছিলো প্রায় তিন মাস আগে। এতোদিন কোমায় ছিলে।
-কোমা?
-হুম। তোমার অবস্থা খুব সিরিয়াস ছিলো। তার উপর সেদিন একইসাথে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে শরীরের রফারফা করেছিলে। ডাক্তার তো তোমার আশা ছেড়েই দিয়েছিল।
-তারপর?
-তারপর তোমাকে নিয়ে হাসপাতালে যাই আমি। মা-বাবা কে খবর দেই। অপারেশনের পর ডাক্তাররা তোমার জ্ঞান ফেরার আসা ছেড়ে দিয়েছিল।
-বুকে টিউমার হয়েছে তাতে মাথার সম্পর্ক কি?
-আরে অপারেশন করার আগে দেখা গেলো তোমার মাথায় ও টিউমার হয়েছে।
-ও আচ্ছা।
বলে বাম হাত দিয়ে মাথা ধরে দেখলাম চুল নেই আমার। এক জায়গায় একটা দাগ অনুভব করলাম।
-এখন তুমি ঘুমাও।
-এক মিনিট, আমি বাসায় এলাম কি করে?
-ডাক্তার বলেছেন তাদের আর কিছু করার নেই। জ্ঞান আসলে এমনিতেই আসবে। হাসপাতালে রাখার দরকার নেই। তাই সবাই তোমাকে বাসায় নিয়ে আসলো। সাথে তোমার মেসের জিনিসপত্র।
-সবই তো বুঝলাম খালি একটা জিনিস বাদে। তুমি এখানে কিভাবে?
৫.
তাশা বলে যেতে লাগলো।
-তোমার জন্য আমি পুরো পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। ঠিকমতো খেতাম না। তোমাকে দেখার জন্য ছটফট করতাম। সারাদিন কাঁদতাম।
একদিন আরিয়ান আমাকে তোমার ডায়েরীটা দিয়ে গেলো। বললো ফিহা এটা মেসে লুকিয়ে রেখেছিলো। আমি তোমার ডায়েরী পড়ে নিজেকে বদলে ফেললাম। আর আমার আম্মুকে দিয়ে কথা বলিয়ে এখানে এলাম।
আমি আমার ডায়েরিতে তাশার ব্যাপারে লিখেছিলাম। ওকে পাগলামি আর ছন্নছাড়া স্বভাব বদলে যেতে লিখেছিলাম। ভেবেছিলাম কোনোদিন ওকে ডায়েরিটা দেবো। আর মাকে আগেই বলেছিলাম তাশার ব্যাপারে। তাই মনে হয় সমস্যা হয়নি।
-এই! কি ভাবছো?
-কিছুনা।
-সাইন করো না কেন?
-জীবনে প্রথমবার বিয়ে করছি তো! তাই খানিকটা নার্ভাস!
-মানে কি? তুমি কয়টা বিয়ে করতে চাও?
-জানি না। বলে ওকে চোখ টিপলাম।
ও অভিমান করে চলে যেতে চাইলো। কিন্তু মা দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। আমি মার দিকে তাকাতেই মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো।
আমি নড করে সাইন করলাম। হাতে স্যালাইনের পাইপ খুলে গেল সাইন করতে যেয়ে।
তাশা মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। সাথে মাও কাঁদছে। তাশার এ কাঁন্না স্বপ্ন সত্যি হওয়ার কাঁন্না। তাশা আগে প্রচন্ড দুঃখী একটি মেয়ে ছিলো। ওর ছন্নছাড়া জীবন আর পাগলামো ওর স্বপ্নগুলো সত্যি হতে দিতো না। আমি জানতাম আমি ওকে সহজে বদলাতে পারবো না। কারণ আমি ওকে কিছু বললে বা রাগ করলে ও সুইসাইড করে বসতো। এমনই মেয়ে ও। তাই সেদিন ইচ্ছে করেই রোগে আক্রান্ত হতে চেয়েছিলাম। যাতে ডায়েরিটা দিয়ে নিজেকে বদলাতে বলতাম। কিন্তু কে জানতো আমার এতকিছু হবে। কিন্তু যাই হোক। যা হয়েছে ভালো হয়েছে। তাশা আজ বদলে গিয়েছে। আমার মনের মতো হয়েছে ও.. সাথে মা ও ওকে পছন্দ করেছে।
তাশা আজ বুঝতে পেরেছে মানুষের স্বপ্ন পূরণ করার মাধ্যমেই নিজের স্বপ্নকে সত্যি করা যায়। আমি হয়তো পারিনি। কিন্তু নিয়তি ওকে এই জিনিসটা খুব ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়েছে।
আমি হাসিমুখে মা আর তার বউমার ক্রন্দন দৃশ্য দেখতেছি।
মনে মনে বললাম
-স্বপ্নমানবী ..ভালোবাসি তোমায়।
সমাপ্ত।