অরোরা
১.
২১১৬ সাল।
সারা পৃথিবী যখন শক্তির নতুন উৎসের সন্ধানে ব্যাস্ত, তখন এক বিজ্ঞানী সম্পূর্ণ নতুন একটি জিনিস আবিষ্কার করে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব সম্পর্কে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। তিনি ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের পথ দেখিয়েছিলেন। শুরু হয়েছিলো পারমাণবিক যুগের। কিন্তু পারমাণবিক শক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। সাথে সাথে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। শুরু হয় নতুন একযুগের। কিন্তু প্রতি যুগেই যেমন যুগের চেয়ে অগ্রগামী কিছু প্রতিভা থাকে তেমনি এখানেও সেই বিজ্ঞানী আছে। ৩৪ বছর বয়সে সে নোবেল পায় তার শক্তিকে ভরে রূপান্তরের থিসিস প্রমাণ করে। তিনি হলেন ড জুসেইন।
ড জুসেইন তার থিসিস প্রমাণ করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে অনেক পরীক্ষা শুরু করেন আর একটি গ্যাজেট বানাতে সক্ষম হন যেটা শক্তিকে ভরে রূপান্তর করতে পারে। যেদিন তার গ্যাজেটের সফলভাবে পরীক্ষা শেষ হয় সেইদিনই তিনি গায়েব হয়ে যান। তার সহকর্মীকে মৃত পাওয়া যায় আর তাদের সকল গবেষণার কাগজ, ফুটেজ, ডেটা ইত্যাদি সবকিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয় তার সহকর্মী কে মেরে কেউ অথবা কারা তাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছে তার গবেষণার সকল জিনিস সাথে করে। এমনকি তার সদ্য বানানো গ্যাজেটটাও আর নেই।
এ নিয়ে সারা পৃথিবীতে হইচই পড়ে যায়। সকল নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়েও খুঁজে পায়নি ড জুসেইনকে। বিভিন্ন ধরণের নিউজ মিডিয়াতে এ নিয়ে অনেক গুজব ও কল্পকাহিনী রটিয়েছে। কিন্তু আসল খবর কেউ জানতে পারে না। ধীরে ধীরে ড জুসেইন নামটা পৃথিবী থেকে মুছে যায়।
হয়তো কেউই জানতো না। যদি না একটি ছোট্ট ভুল আমার জীবনটাকে বাঁচিয়ে দিত।
২.
আমি কে বা কোথা থেকে এসেছি এটা আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে কিছু লোক আমাকে একটি অপারেশন টেবিলে রেখে আমার উপর তীব্র একধরণের আলো ফেলে। তারা পরপর তিনদিন আমার সাথে এমন করে। সে সময় আমাকে খাবার দেয়া হয় না, পানি দেয়া হয় না। কিন্তু আমারও ক্ষুধা বা তৃষ্ণা অনুভব হয় না। আমার শরীরের সাথে অনেকগুলো তার লাগানো আছে। সেগুলো একটি মনিটর আর কিছু কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত। মাঝে মাঝে একদল লোক এসে আমাকে দেখে যায় আর সেখানে অবস্থান করা অপারেটরদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আমি শুয়ে থাকার ভান করে তাদের কথা শুনি। এভাবে তাদের কথা শুনতে শুনতে আমি একটি প্ল্যান বানাই মনে মনে। আর একদিন অপারেটর এর ছোট্ট একটি ভুলের জন্য আমি পালাতে সক্ষম হই।
আমি পালিয়ে বাইরে আসার পর নিজেকে একটা জঙ্গলের মধ্যে আবিষ্কার করলাম। মনে করেছিলাম সহজেই এর থেকে বের হতে পারবো। কিন্তু কিছক্ষন পরই টের পেলাম ব্যাপারটি এত সহজ নয়। দুইটি হাউন্ডের তাড়া খেয়ে আর একহাতে লেজারের গুলি খেয়ে যখন জঙ্গল থেকে বের হলাম তখন আমার শরীরে শক্তির বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট ছিলো না।
জঙ্গলের পাশের রাস্তায় একটা ট্রান্সপোর্ট ভেহিকেল ছিলো। দরজাটা খোলা পেয়ে পিছনে উঠে পড়লাম অনেক কষ্ট করে। ভেহিকেলে কেউ ছিল না তখন। আমার কি হয়েছে বা কি হবে সেটুকু ভাবার মানসিক অবস্থা বহু আগেই লুপ্ত হয়েছিলো। আর পারলাম না।
যখন জ্ঞান ফিরলো একটা ফ্লেক্সিবল বিছানায় নিজেকে আবিষ্কার করলাম। এই ধরনের বিছানার বৈশিষ্ট্য হল নিজের পছন্দ ও আরামের ভিত্তিতে বিছানাকে ইচ্ছেমত পরিবর্তন করা যায়।
-উঠতে পারলে!
একজন পুরুষের ভারী গলা শুনে আমি তাকালাম তার দিকে। বছর চল্লিশের একজন মানুষ। তার চোখে যেন একবার নিষ্ঠুরতা ঝিলিক দিয়ে গেল।
-অ্যা, হ্যাঁ।
-কেমন বোধ করছো?
-ভালো। আমি এখানে কিভাবে?
উনি কিছু বললেন না। মুচকি হেসে বিছানার পাশে একটি ফ্লোটিং টেবিলের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর একটি জিনিস হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন
-এর কি ব্যাখ্যা দেবে তুমি?
আমি দেখলাম তার হাতে একটি লেজার প্রটেক্টর আর্মার স্যুট। তার একদিক প্রায় ঝাঝরা হয়ে আছে। সাথে সাথে আমার সব মনে পড়লো। আমি একজন গার্ডকে অজ্ঞান করে তার এই স্যুটটি পড়ি আর একটি হার্ডডিস্ক নিয়ে পালাই।পালাতে পেরেছিলাম কারণ তাদের দেয়া ঘুমের ইনজেকশনগুলো আর আমার উপর কাজ করেনি আর পালানোর সময় গার্ডরা পিছন থেকে গুলি করে স্যুটের ঐ দশা করে এখনকার হার্ডডিস্কগুলোও অনেক ছোট। তাই পকেটে করে নিতে কোনো সমস্যাই হয়নি।
-কি হল? বলবে না?
-আমার কিছু মনে নেই।
মিথ্যা বললাম।
-আচ্ছা তুমি বিশ্রাম নাও।
এই বলে উনি চলে গেলেন। কিন্তু আমি বিছানা থেকে নামলাম। হঠাৎ মনে পড়লো হাতে গুলি লেগেছিল। কিন্তু হাতের দিকে তাকাতে চমকে উঠলাম। কোনো ক্ষত নেই। কিভাবে যেন হাতের ক্ষত মিলিয়ে গিয়েছে।
আমার গায়ে একটি ম্যাসন ক্ল্যানের পোশাক। ক্ল্যানের নাম জামার গায়েই লেখা ছিল। কিন্তু আমি তো ম্যাসন ক্ল্যানের না। কিছু একটা মনে পড়ে পড়ে করেও পড়লো না। অগত্যা আমার জুতো খুঁজে নিয়ে তার ভিতর থেকে হার্ডডিস্কটি বের করলাম। এখন একটি কম্পিউটারের প্রয়োজন।
৩.
রুম থেকে বের হলাম একটি কম্পিউটারের খোঁজে। একটি মেয়েকে দেখে ডাক দিলাম।
-এই যে মিস।
-আমাকে বলছো?
অচেনা কাউকে প্রথমবারেই তুমি বলায় খানিকটা বিস্মিত হলাম। তার চেয়েও বিস্মিত হলাম তাকে দেখে। চেহারাটা কোথায় যেন দেখেছি। কিন্তু আমার স্মৃতি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করলো। সাথে মন টাও! কালো চুল, নীল চোখের এক তরুণী সে।
-ইয়ে মানে একটা কম্পিউটারের দরকার ছিলো। দিতে পারবেন?
-তুমি কম্পিউটার দিয়ে কি করবে? চালাতে জানো?
আসলেই তো! আমি কম্পিউটার চালাতে পারি? নিজেকে প্রশ্ন করলাম। আর তাকে উত্তর দিলাম
-নাহ পারি না।
-তাহলে?
-আপনি কি আমাকে সাহায্য করতে পারবেন?
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবলো। তারপর বললো
-এসো আমার সাথে।
বলে চুলের সুগন্ধ পিছনে রেখে চলে গেল। আর আমিও সেই সুবাশের পিছু নিলাম।
হার্ডডিস্কটা কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করার ফাঁকে তার সাথে কিছু কথা হলো। নামটা জানলাম তার, অরোরা! আমার থেকে তিন সৌরবছর বড়। ওর বাবা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে ওদের বাড়িতে। ঐ ভেহিকেলটাতে করে ওরা বাসায় ফিরছিল। তখন ওদের ভেহিকেল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওরা সেটা সাসেস্ক জঙ্গলের পাশে পার্ক করে। আর টেকনিশিয়ানদের খবর দিয়ে নিজেরা আশেপাশে ঘুরে দেখতে যযায়। তখনই আমি ওদের ভেহিকেলে উঠি। আমাকে দেখে তারা প্রথমে মেডিকেয়ারে নিতে চায়। কিন্তু গায়ের পোশাক দেখে ঝামেলায় পড়বে মনে করে তারা নিজের বাসাতেই নিয়ে আসে আমাকে।
অরোরা থ্রিডি স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে আর আমি তার দিকে। মনে মনে ওর নামটা ছোট করে অরো বানিয়ে ফেললাম।বুঝতে পারছি অরোরার প্রতি আমি তীব্র এক আকর্ষ্ন অনুভব করছি। কিন্তু এখন প্রেমে পড়ার সময় নয়।
অরোরা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেল। আমাকে বসিয়ে রেখে ও বাইরে চলে গেল কি একটা কাজ আছে এটা বলে। আমি বসে না থেকে কম্পিউটারটি ব্রাউজ করার চেষ্টা করলাম। দেখলাম নিজে থেকেই পারছি। কিভাবে পারলাম বুঝতেছি না। ভিতর থেকে যেন কেউ বলে দিচ্ছে কোনটার পর কোন অপশনে যেতে হবে।
৪.
হার্ডডিস্কটাতে যেসব তথ্য পেলাম তাতে আমার শরীর শিউরে উঠছে। আরো আশ্চর্য কিছু ব্যাপার হচ্ছে যা-ই দেখতেছি হার্ডডিস্কে সব মনে থাকছে স্পষ্টভাবে। অতিমানবিক দ্রুততার সাথে হার্ডডিস্কটির অধিকাংশ জিনিসই ব্রাউজ করে ফেলেছি। এখন আমি অনেক কিছুই স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি।
ড জুসেইন, যিনি শক্তিকে ভরে রূপান্তর করার থিওরী আবিষ্কার করেন তাকে কিডন্যাপ করা হয়। কিডন্যাপ করেন অরোরার বাবা। যিনি নিজেও একজন বিজ্ঞানী। তিনি ড জুসেইনের সাথে শক্তি-ভর থিওরী এর উপর কাজ করতে চেয়েছেন। কিন্তু তিনি মানুষ ভালো ছিলেন না দেখে ড জুসেইন তার সাথে কাজ করতে রাজী হননি। তাই তাকে কিডন্যাপ করা হয়। আর তার থিওরী কাজে লাগিয়ে বানানো গ্যাজেটটিকে মানুষের উপর প্রয়োগের পরীক্ষা করেন অরোরার বাবা ড লেস্টার। তার পরীক্ষার সাত নম্বর গিনিপিগ ছিলাম আমি।
আমি লিও। আমি একজন প্রোগ্রামার ছিলাম ড লেস্টারের ল্যাবে। সে যখন তার পরীক্ষা শুরু করে মানুষদের উপর আমি তখন তাতে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলাম। কারণ শক্তি-ভর থিওরীর গ্যাজেটের দ্বারা মানুষের উপর যে নতুন সাব-এটোমিক রশ্মি ফেলা হত তা মানুষের ডিএনএ তে পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষকে বিকৃত প্রানীতে পরিণত করতো। তারা সেসব প্রাণীর উপর পরীক্ষার নামে অত্যাচার করতেন। ডিএনএ এর তেইশ জোড়া ক্রোমোসোমের সাথে নতুন কিছু ক্রোমোসোম উৎপন্ন হয় আর তা জীনের পরিবর্তন ঘটিয়ে দিত। মানুষ আর মানুষ থাকতো না। একটা ভিডিওতে দেখলাম একজনের শরীর থেকে আগুন জ্বলছে আর লাভার মতো তার সারা শরীর থেকে মাংস গলে গলে পড়ছে।
আমি এসব অন্যায় সহ্য করতে পারিনি। তাই কাজ থেকে ইস্তফা দিয়ে ফিরে আসছিলাম তখন আমাকে ড লেস্টারের লোকেরা অজ্ঞান করে ল্যাবে নিয়ে আসে। তারপর তারা আমার স্মৃতি নষ্ট করে দেয় মেডিসিন প্রয়োগের মাধ্যমে। যাতে আমি বাইরের দুনিয়ার কাছে তাদের এই অমানবিক কার্যক্রম এর কথা প্রকাশ করতে না পারি। আমাকে বাইরে ছেড়ে আর করবে কি। তাই আমার উপরেও পরীক্ষা করা শুরু করে তারা। ভাগ্যের জোড়ে নাকি ডিএনএ এর আশীর্বাদে জানিনা কিন্তু আমার কোনো শারীরিক বিকৃতি হয়নি। তারা আমাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। আর আমি পালিয়ে আসি।
আগে বুঝিনি। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি। আমার ডিএনএ তেও পরিবর্তন এসেছে। আমি পরিবেশ থেকে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য আলো গ্রহণ করে তা ভরে রূপান্তর করতে পারি অর্থাৎ আমার শরীরে কোনো ক্ষত হলে তা সারিয়ে ফেলতে পারি। অনেকটা সেলফ হিলিং এর মতো। এর মাধ্যমে আমার গুলি লাগা হাত সেরে যায়। এর জন্যই ঘুমের ঔষধ আমার উপর কাজ করে না। হয়তো এর প্রভাবেই আমার মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্থ নিউরনগুলো আবার সুগঠিত হয়ে যাচ্ছে আর আমার স্মৃতি ফিরে আসছে।
মনে পড়ছে সেসব দিনের কথা যখন অরোরা আমাদের সাথে একত্রে ল্যাবে কাজ করতো। ওকে আমি অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি। অরোরাকে আমি অরো বলেই ডাকতাম। অরো একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। একসময় ওর নিজের তৈরি কম্পিউটারে আমি প্রোগ্রাম করেছি। আজ সেই অরো আমার সাথে এমন ধোঁকা দিল।
৫.
মানুষ তার সারাজীবনে ব্রেনের মাত্র ১০% ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ড জুসেইনের গ্যাজেটের প্রভাবে আমার ব্রেনের কার্যক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৫০% হয়ে যায়। আর আমি নিজের অজান্তে ড জুসেইন এর সেই গ্যাজেট এর হিউম্যান ভার্সন হয়ে যাই।
ঐদিন ড লেস্টারের বাসায় আমাকে ধরে নেয়ার জন্য ল্যাব থেকে স্পেশাল এজেন্টরা আসে। আমি প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। কিন্তু যখন বুঝলাম তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল। তারা ঠিক করেছিল আমাকে নিয়ে আবার পরীক্ষা করবে ও অঙ্গচ্ছেদ করবে।
আমাকে নিয়ে ল্যাবে চলে আসার পর আমার উপর আবার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু ঔষধ কাজ করে না দেখে তারা সরাসরি অপারেশন এর সিদ্ধান্ত নেয়।
অপারেশন এর আগে অরো আমার সাথে দেখা করতে আসে। আমি অপারেশন টেবিল এর সাথে বাঁধা আছি। রুমে আর কেউ ছিল না। আমি জানি আর কখনও সুযোগ পাবো না। যাকে ভালোবেসেছিলাম তার হাতে মরতেও আপত্তি নেই আমার। তাই সময় নষ্ট না করে বলে ফেললাম
-ভালোবাসি তোমাকে অরো। যেনে রেখো একজন মানুষ তোমাকে ভালোবেসেছে যাকে তুমি ধোঁকা দিয়েছো।
অরো কিছু বললো না। কিন্তু যখন হাত যখন উঠালো তাতে একটা আদিকালের রিভলবার নামক বন্দুক দেখতে পেলাম। তারপর কিছু বোঝার আগেই আমার বুকে দুটো গুলি চালিয়ে দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করলো।
একই সাথে আমার বুকে ও মাথায় তীব্র যন্ত্রণা হল। প্রচন্ড জোরে চিৎকার দিয়ে উঠলাম। সারা পৃথিবী ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে করলো। তীব্র যন্ত্রণায় জ্ঞান হারালাম।
আলো… আলোর একটি সুক্ষ্ম স্পর্শ আমাকে জাগিয়ে তুললো। আমি চোখ মেলে তাকালাম। একটি ধংস স্তুপের মধ্যে পড়ে আছি আমি। পাশে অরোরা মাটিয়ে শুয়ে আছে। যে অরোরাকে আমি ভালোবাসতাম। যে অরো আর কখনও চোখ খুলে তাকাবে না।
আজ এক বছর হয়ে গেল সেই ঘটনার পর। আমি আজও দুইটি গুলি বুকে নিয়ে বেঁচে আছি। আমার জিনেটিক মিউটেশন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি এখন খুব ভালোভাবেই ব্রেনের ক্ষমতা ব্যবহার করে শক্তিকে ভরে রূপান্তর করতে পারি। আমি জানি না অরো মারা যাওয়ার পর সেদিন ল্যাবে কি হয়েছিল। তবে এতুকু অনুমান করতে পারি যে আমি নিজের অজান্তেই প্রচুর পরিমাণ শক্তিকে ভরে রূপান্তর করে ফেলি। আর তাতেই বিস্ফোরণ হয় ল্যাবে। ড জুসেইন, ড লেস্টার আর তার কর্মচারীরা সবাই মারা যায়। বেঁচে যাই শুধু আমি একা। অরোকে নিয়ে আমি সব ক্ল্যান থেকে দূরে টাইফাস পাহাড়ে চলে আসি। রোজ ওর কবরের পাশে বসে খালি একটি জিনিস অনুমান করতে ব্যর্থ হই ও কেন ওরকম করেছে।
তাহলে অরো কি আমাকে ভালোবাসতো? নিজের ভালোবাসা বাঁচাতে পারবেনা জেনে কি ও এরকম পরাজয় বরণ করে নেয়?
আমি আজও উত্তর খুঁজি। কিন্তু মানবী অরোরার মত এর উত্তরও আজ আমার ধরাছোয়ার বাইরে…
সমাপ্ত।