কারো বাসায় ছোটোবাচ্চা নিয়ে বেড়াতে গেলে

কারো বাসায় ছোটোবাচ্চা নিয়ে বেড়াতে গেলে বাচ্চার দিকে নজর রাখুন। বাচ্চাটা যেহেতু গরু-ছাগলের না,আপনার..সুতরাং আপনার উচিৎ তাকে সেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা। কারো বাসায় গেলে কিরকম আচরণ করা লাগে বা কোনো জিনিস নষ্ট করা ঠিক না এগুলা মা'ই শিখানো লাগে।
"বাচ্চা কথা শুনেনা,অনেক দুষ্টু" "ওর অনেক জেদ,যা চায় তা না দিলে চিৎকার করে" "বাচ্চারা তো এরকম একটু করেই" - আপনি মা,বাচ্চা যদি আপনার কথা না শুনে তাইলে আপনি কেমন মা? আপনি মটকা মেরে বসে আড্ডা মারতেছেন আর বাচ্চা এদিকে হনুমানের মতো লেজে আগুন লাগায়া লঙ্কা জ্বালায়া দিতেছে এটা খুবই বিরক্তিকর।
আমার একগাদা মিনি সাইজের কাজিন আছে। আমার খালারা এদেরকে এমন ভাবে বুঝায় বা ট্রেনিং দেয় যে তারা ময়নাপাখির মতো থাকে বাইরে কোথাও গেলে। আমার খালুকে দেখেছি অফিসে যাওয়ার আগে মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করে বলতেছে যেন বাবা চলে গেলে কাউকে না জ্বালায়,ভালো হয়ে থাকে। আরেক মামাকে দেখেছি মেয়েকে ভাত মেখে খাওয়াচ্ছে আর সুন্দর সুন্দর আদব শেখাচ্ছে। আমার আম্মু বাচ্চা পছন্দ করে। আমার পিচ্চি কাজিনরা তো আমাদের বাসায় আসলে যাইতেই চায় না আমার আম্মুর জন্য। এমনকি আমার আম্মুর কাজিনের বাচ্চারাও তাকে খুবই পছন্দ করে।
আমাদের বাসায় আমার ছোটো কাজিনরা আসলে তারা সারাঘরে গুটুর গুটুর করে হাঁটে, সুন্দর করে কথা বলে,কোনো জিনিস ধরার আগে জিজ্ঞেস করে। বাচ্চারা খেলবে,হাসবে,বাচ্চাসুলভ কাজকারবার করবে,এগুলোই তো স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু বাচ্চা যখন কারো বাসায় বেড়াতে গিয়ে ঘর উল্টায়া ফেলে আর বাবা-মা দেখেও না দেখার ভান করে তখন খুবই খারাপ লাগে।
একটা ঘটনা বলি। একবার তো এক বাচ্চা খুবই বাজে বাজে গালি দিচ্ছিলো এগ্রেসিভ হয়ে।আমি যখন বাচ্চার মা'কে এটা জানালাম, মহিলা উল্টো আমার উপরেই রেগে গেলেন এবং বললেন ছোটোবাচ্চারা এরকম অনেক কথাই বলে। আমি অবাক হলাম একজন মাস্টার্স পাশ মহিলার ৩/৪ বছরের ছোটো বাচ্চা বিস্রিসব গালি দিচ্ছে আর মহিলা বাচ্চাকে না বুঝিয়ে বা চিন্তিত না হয়ে উল্টো আমাকেই ঝেড়ে দিলো। দূর্ভাগ্যবশতঃ এসব বাচ্চাদেরকে আদর করার আগ্রহই নষ্ট হয়ে যায়।
আরেকবার তো এক বাচ্চাকে জিনিস নষ্ট করতে নিষেধ করায় বাচ্চার মা চোখমুখ থমথমে করে চলেই গেলো। অথচ ওই মূহুর্তে বাচ্চাকে যদি আদর করে বুঝিয়ে বলতো, বাচ্চা অবশ্যই এই কাজটা আর কখনো করতোনা।
আবার আরেকবার দেখলাম এক বাচ্চা নিজের মা'কেই মারছে বা এগ্রেসিভ আচরণ করছে।পরে জানলাম বাচ্চাটার বাবা নিজের স্ত্রীর সাথে এরকম আচরণ করেন,যেটা দেখে বাচ্চা শিখেছে।
বাচ্চার খেয়াল রাখা মা-বাবা দুইজনেরই সমান দায়িত্ব। কিন্তু বাচ্চা যেহেতু মায়ের সাথে দিনের বেশীরভাগ সময় পার করে সেহেতু মায়ের অংশটা তুলনামূলক বেশী। আমার আব্বুর সাথে কোথাও গেলে পুরাটা রাস্তা বলতে বলতে যাইতো,"সবাইকে সালাম দিবা,সুন্দর করে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলবা,না জিজ্ঞেস করে কিছুতে হাত দিওনা"।
আমার মা তাঁর তিনটা বাচ্চাকে জীবনে একটা থাবড় দেয়নাই কিন্তু আমার ভাইয়েরা মাটিতে পা ফেলার আগেও আম্মুর চোখের দিকে তাকায় যে ইশারা দিচ্ছে কিনা।
আমার নানী তো কারো দুষ্টু বাচ্চা দেখলেই আল্লাহর কাছে শোকরানা পড়ে যে তার ভাগে ভালো ক্যাটাগরির নাতি-নাতনি পড়ছে!
অথচ আমি এমনও পরিবার দেখেছি যেখানে মা যদি বাচ্চাকে একটু শাসন করে বাকিরা মায়ের উপর চড়াও হয়।
বাচ্চাকে বুঝানো লাগে,সুন্দরটা শিখানো লাগে। আমি আর আপনিও তো আস্তে আস্তে শিখেছি, এখনো শিখছি।
বাবা-মায়েদের এবং পরিবারের সকলের উচিৎ বাচ্চার সাথে বাসায় ছোটো ছোটো আদবকায়দাগুলো প্র্যাক্টিস করা।